হিজিবিজি ।। যোগীন সরকার ( এবং রায় সুকুমার )
== এই ব্লগে প্রদর্শিত অপরের রচনাংশ, স্থিরচিত্র বা
অলংকরণের কপিরাইট আমাদের নয় । ==
পোস্টের
বক্তব্য স্পষ্টতর করতে এগুলি সাজানো হচ্ছে । কোনও ব্যবসায়িক স্বার্থে নয় ।
| BlOGUS ব্লগে ‘হিজিবিজি ।। যোগীন সরকার ( এবং রায় সুকুমার )’ । যোগীন্দ্রনাথ সরকার (১৮৬৬ – ১৯৩৭) ও সুকুমার রায় (১৮৮৭ – ১৯২৩) । |
এক্কাগাড়ি ছুটল যখন !
| “এক্কা গাড়ী খুব ছুটেছে”, যোগীন্দ্রনাথ সরকার-এর ‘হাসি খুসি’ প্রথম ভাগ । শিল্পী ।। অজ্ঞাত । |
একটু থমকে যেতে হয় ।
পঙক্তির সঙ্গে অলংকরণের এমন অমিল পাওয়া দুষ্কর ।
ছোটা তো দুরস্থান, হাঁটবারও কোনো লক্ষণ নেই এক্কাগাড়ির অশ্বের ।
যোগীন্দ্রনাথ সরকার-এর ‘হাসি খুসি’ প্রথম ভাগ (১৮৯৭) প্রকাশের সময় সুকুমার রায় বছর দশেকের বালক ।
লেখা-রেখার এই অসংগতি কি তাঁর চোখে পড়েছিল ?
নইলে তিন দশক পরে, স্ব-সম্পাদিত ‘সন্দেশ’-এ
১, কোনো পূর্বাপর প্রসঙ্গ ছাড়াই
কেন এই লাইনখানি স্বহস্তে চিত্রিত করার দায়িত্ব নেওয়া ?
আর সে কী অব্যর্থ অলংকরণ । যানসমেত বাহন বুঝি বেরিয়ে আসে পৃষ্ঠা ভেদ করে !
আর সে কী অব্যর্থ অলংকরণ । যানসমেত বাহন বুঝি বেরিয়ে আসে পৃষ্ঠা ভেদ করে !
| “এক্কাগাড়ী
খুব ছুটেছে” - , ‘সন্দেশ’, শ্রাবণ ১৩৩০ । শিল্পী ।। সুকুমার রায় । |
অবশ্য ‘হাসি খুসি’ নয় । যোগীন্দ্রনাথ-এর
অপর এক গ্রন্থ নিয়ে আজ ‘হিজিবিজি’ বকতে বসেছে BlOGUS ।
এক্কাগাড়ি ব্যতিক্রম । সাধারণভাবে কিন্তু সরকার
মহাশয়ের বইতে ছড়া ও ছবির বন্ধুত্ব হত অটুট ।
‘হিজিবিজি’-র (১৯১৬) কথাই ধরুন ।
এর বেশ কিছু কবিতা, অলংকরণ ব্যতীত অসম্পূর্ণ ।
হালে নানা সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সময়, মূল চিত্রসমূহ বর্জিত হয়েছে । ফলে সেই ছড়াগুলির অর্থই গেছে হারিয়ে ।
‘হিজিবিজি’-র (১৯১৬) কথাই ধরুন ।
এর বেশ কিছু কবিতা, অলংকরণ ব্যতীত অসম্পূর্ণ ।
হালে নানা সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সময়, মূল চিত্রসমূহ বর্জিত হয়েছে । ফলে সেই ছড়াগুলির অর্থই গেছে হারিয়ে ।
| যোগীন্দ্রনাথ সরকার প্রণীত ‘হিজিবিজি’, ১৮ শ সংস্করণ, সিটি বুক সোসাইটি । |
যোগীন্দ্রনাথ এবং সুকুমার ।
যোগীন্দ্রনাথ-এর তিন
বছর আগে জন্মেছিলেন বন্ধু উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ।
দুজনেই গদ্যে-পদ্যে ছোটদের জন্য মহাকাব্যের অনুবাদ করেছেন, উপকথা অবলম্বনে গল্প এবং জীবজগৎ নিয়ে সরস নিবন্ধ লিখেছেন ।
যোগীন্দ্র-প্রতিষ্ঠিত সিটি বুক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত হয়েছিল উপেন্দ্রকিশোর রচিত / চিত্রিত ‘ছেলেদের রামায়ণ’ (২ য় সংস্করণ), ‘ছেলেদের মহাভারত’ এবং ‘মহাভারতের গল্প’ ২ । যোগীন্দ্রনাথ সম্পাদিত নানা গ্রন্থেও সংকলিত হয় উপেন্দ্র-রচনা ।
‘হিজিবিজি’ গ্রন্থটি সিটি বুক সোসাইটি-রই ফসল ।
দুজনেই গদ্যে-পদ্যে ছোটদের জন্য মহাকাব্যের অনুবাদ করেছেন, উপকথা অবলম্বনে গল্প এবং জীবজগৎ নিয়ে সরস নিবন্ধ লিখেছেন ।
যোগীন্দ্র-প্রতিষ্ঠিত সিটি বুক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত হয়েছিল উপেন্দ্রকিশোর রচিত / চিত্রিত ‘ছেলেদের রামায়ণ’ (২ য় সংস্করণ), ‘ছেলেদের মহাভারত’ এবং ‘মহাভারতের গল্প’ ২ । যোগীন্দ্রনাথ সম্পাদিত নানা গ্রন্থেও সংকলিত হয় উপেন্দ্র-রচনা ।
‘হিজিবিজি’ গ্রন্থটি সিটি বুক সোসাইটি-রই ফসল ।
যোগীন্দ্র একসময় সিটি
কলেজিয়েট স্কুল-এ পড়াতেন । ন’ বছর
বয়সে সেখানকার ছাত্র হন সুকুমার রায় ৩ ।
পিতৃবন্ধুকে কি তিনি শিক্ষকরূপে পেয়েছিলেন ? জানা যায় না ।
কিন্তু বাংলা ননসেন্স কাব্যরচনার ক্ষেত্রে বোধহয় তাঁর সার্থক পূর্বসূরি যোগীন্দ্রনাথ-ই ।
‘হিজিবিজি’-তে মিলবে যোগীন সরকার-এর লেখা কয়েকটি সুকুমার-মেজাজের আজগুবি কবিতা ।
পিতৃবন্ধুকে কি তিনি শিক্ষকরূপে পেয়েছিলেন ? জানা যায় না ।
কিন্তু বাংলা ননসেন্স কাব্যরচনার ক্ষেত্রে বোধহয় তাঁর সার্থক পূর্বসূরি যোগীন্দ্রনাথ-ই ।
‘হিজিবিজি’-তে মিলবে যোগীন সরকার-এর লেখা কয়েকটি সুকুমার-মেজাজের আজগুবি কবিতা ।
‘হিজিবিজি’-র সূচিপত্র
।
অধুনালুপ্ত এই বইটির ১৮ শ সংস্করণ (সাল অজানা) পাওয়া গেছে ।
মনে হল এর সচিত্র কিয়দংশ BlOGUS ব্লগে সংরক্ষণ করলে মন্দ হয় না ।
অধুনালুপ্ত এই বইটির ১৮ শ সংস্করণ (সাল অজানা) পাওয়া গেছে ।
মনে হল এর সচিত্র কিয়দংশ BlOGUS ব্লগে সংরক্ষণ করলে মন্দ হয় না ।
ধাঁধা বাদ দিলে ‘হিজিবিজি’ গ্রন্থে ছোট-বড় মিলিয়ে উনিশটা ছড়া ।
সম্পূর্ণ তালিকা এইরকম :
১) বর্ণের ছড়া
২) সাবধান !
৩) তালপাতার সিপাই
৪) ইজি-চেয়ার
৫) কেমন হ’ত !
৬) গঙ্গারামের খুড়ো
৭) অদল-বদল
৮) সখের গাড়ী
৯) সাধের নৌকা
১০) ছেলের চিঠি
১১) ভাগ্যে রক্ষে
১২) দোলনা
১৩) চিৎপটাং
১৪) বাপরে বাপ্
১৫) আজব চিড়িয়াখানা
১৬) উল্টা বুঝলি রাম !
১৭) ঘোড়ার ডিম
১৮) গোলক ধাঁধা
১৯) হ-য-ব-র-ল (স্বর্গীয় সুকুমার রায় চৌধুরী লিখিত)
২০) নাক ! – সাবধান !
২১) বিয়ে-পাগলা
দেখা যাচ্ছে, ১৯ নম্বর অংশটির স্রষ্টা
স্বয়ং সুকুমার ।
অর্থাৎ প্রণেতার জায়গায় শুধু যোগীন্দ্রনাথ সরকার-এর নাম থাকলেও ‘হিজিবিজি’-র সহ-লেখক এক অর্থে সুকুমার রায় ।
অবশ্য এ ‘হ-য-ব-র-ল’ আমাদের পরিচিত রচনাটি নয় । ধাঁধা-সংগ্রহ ।
যাক সে কথা । আগে অল্প-চেনা বইয়ের পৃষ্ঠাগুলো উলটে দেখা যাক ।
অর্থাৎ প্রণেতার জায়গায় শুধু যোগীন্দ্রনাথ সরকার-এর নাম থাকলেও ‘হিজিবিজি’-র সহ-লেখক এক অর্থে সুকুমার রায় ।
অবশ্য এ ‘হ-য-ব-র-ল’ আমাদের পরিচিত রচনাটি নয় । ধাঁধা-সংগ্রহ ।
যাক সে কথা । আগে অল্প-চেনা বইয়ের পৃষ্ঠাগুলো উলটে দেখা যাক ।
১) বর্ণের ছড়া
সূচিপত্র
অনুপস্থিত । ‘হিজিবিজি’-র প্রথম রচনা ‘বর্ণের ছড়া’ ।
‘অ - অজগর আসছে তেড়ে’ ইত্যাদি ছড়ার মাধ্যমে অক্ষর পরিচয় করানোর ক্ষেত্রে পথিকৃৎ যোগীন্দ্রনাথ ।
‘হাসি খুসি’-র সেই ধারা ‘হিজিবিজি’-তেও অব্যাহত ।
‘বর্ণের ছড়া’-য় প্রত্যেকটি বর্ণ এক-একটি মানুষ বা জন্তু ।
তাঁদের বিচিত্র কাজকর্মের প্রতি কিঞ্চিৎ ব্যঙ্গের কটাক্ষ হেনেছেন ছড়াকার ।
‘অ’, ‘আ’ অলস, নির্বোধ । ‘ই’ আমাদের মত অনর্গল ইংরেজি আওড়ান । ‘ঋ’, ‘ঌ’ সাধুবেশে পাকা চোর ।
‘বর্ণের ছড়া’-র সঙ্গেও কিন্তু সুকুমার-এর একটি পরোক্ষ সম্বন্ধ রয়েছে ।
‘সন্দেশ’, বৈশাখ ১৩২৩ সংখ্যায় প্রকাশিত হয় ‘বর্ণপরিচয় (স্বরবর্ণ)’ শীর্ষক ছড়া ।
কবির পরিচয় জানা যায় পরের মাসে । সেখানে ‘বর্ণপরিচয় (ব্যঞ্জনবর্ণ)’ শিরোনামের সঙ্গে ছিল যোগীন্দ্রনাথ সরকার-এর নাম ।
দুটি কিস্তিই অলংকৃত করেন পত্রিকা-সম্পাদক সুকুমার রায় ।
| ‘বর্ণপরিচয় (ব্যঞ্জনবর্ণ)’, যোগীন্দ্রনাথ সরকার, ‘সন্দেশ’, জ্যৈষ্ঠ ১৩২৩ । শিল্পী ।। সুকুমার রায় । |
যেমন আদিরূপে ‘এ’, ‘ঐ’ প্রসঙ্গে ছিল “...মুখ শুকালো, ভয়েতে ঐ লুকায় পুকুর পাড়ে ।”
‘হিজিবিজি’-তে পড়ি “...“ঐ যে রে চোর” যেই শুনেছে, লুকায় পুকুর-পাড়ে ।”
ব্যঞ্জনবর্ণের বেলায় পরিবর্তনগুলি ব্যাপকতর ।
‘সন্দেশ’-সংস্করণের স্বরবর্ণ-অংশের পাশে ‘বর্ণের ছড়া’-র প্রথম পৃষ্ঠাখানি রাখা হল ।
স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, সুকুমার-এর মূল অলংকরণগুলিকেই অনুসরণ করেছেন ‘হিজিবিজি’-র আঁকিয়ে ।
‘অ’ থেকে চন্দ্রবিন্দু অবধি বর্ণ-চরিত্রের ভঙ্গিমা উভয়ক্ষেত্রেই প্রায় হুবহু এক ।
| (বাঁদিকে) ‘বর্ণপরিচয় (স্বরবর্ণ)’, যোগীন্দ্রনাথ সরকার, ‘সন্দেশ’, বৈশাখ ১৩২৩ । শিল্পী ।। সুকুমার রায় । (ডানদিকে) ‘বর্ণের ছড়া’-র প্রথম পৃষ্ঠা, ‘হিজিবিজি’ । শিল্পী ।। অজ্ঞাত । |
২) সাবধান !
‘সাবধান !’ বললেই সুকুমার রায়-এর প্যালারাম বিশ্বাস -কে মনে পড়ে (‘সন্দেশ’, অগ্রহায়ণ ১৩২৩) ।
যোগীন সরকার-এর এই ছোট্ট ছড়াটি সম্পর্কে আশাপূর্ণা দেবী মন্তব্য করেছিলেন “সমাজতত্ত্বের কী স্পষ্ট ছবি !” ৪
| ‘সাবধান !’, ‘হিজিবিজি’ । শিল্পী ।। অজ্ঞাত । |
৩) তালপাতার সিপাই ; ৪) ইজি-চেয়ার
আগেই বলা হয়েছে, ‘হিজিবিজি’ গ্রন্থে ছবি ও ছড়ার যোগ অবিচ্ছেদ্য ।
রচনা # ৩-এ বেড়াল তাড়ানোর উদ্দেশ্যে দরজায় একটি ‘তালপাতার সিপাই’ স্থাপন করেছেন কথক ।
কিন্তু তাঁর পরিচয় কী ? চিত্রত্রয়ী অগ্রাহ্য করে কবিতাটি পাঠ করলে না-ও বোঝা যেতে পারে ।
কমিকসের বেলায় সংলাপে যা অকথিত থাকে, ধরা পড়ে চিত্রে ।
যোগীন্দ্রনাথ সরকার-এর অনেক ছড়াই এই ‘ছবিতে গল্প’ ধাঁচের ।
তিন স্তবক এবং তিনটি অলংকরণের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে এগিয়েছে ‘তালপাতার সিপাই’-এর কাহিনি ।
কমিকসের কায়দাতেই ।
| ‘তালপাতার সিপাই’ ও ‘ইজি-চেয়ার’, ‘হিজিবিজি’ । শিল্পী ।। অজ্ঞাত । |
ছড়া # ৪ ‘ইজি-চেয়ার’ ।
আধুনিক কালের এক যোগীন্দ্র-অমনিবাসে অলংকরণ-শিল্পী আরামকেদারায় আসীন এক আয়েশি ভদ্রলোক-কে এঁকে দিয়ে কাজ সেরেছেন ।
ফলে ‘ইজি-চেয়ার’-এর মূল রহস্য অধরাই রয়ে গেছে ।
চেয়ার ও তার মালিকের প্রকৃত চেহারা জানবার জন্য ‘হিজিবিজি’-র আদি চিত্রখানির বিকল্প নেই ।
৫) কেমন হ’ত ! ; ৭) অদল-বদল ; ১৫) আজব চিড়িয়াখানা ;
৬) গঙ্গারামের খুড়ো
সুকুমার-সৃষ্ট ষষ্ঠিচরণ (‘পালোয়ান’) আসরে নামার মাস দুয়েক পরেই আবির্ভূত হন তাঁর এক হস্তী-লোফার প্রতিদ্বন্দ্বী ।
সরকার মশায়ের ‘কুস্তি-মহারাজ’ (‘তখন আর এখন’) ৫ ।
এক্ষেত্রে উভয়ের পদ্যদুটির পয়লা প্রকাশ জানা গেছে ।
তবে সর্বদা সেই তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি ।
কাজেই দুই কবির যেসব রচনায় বিষয়গত সাদৃশ্য বর্তমান, সেখানে কে কাকে প্রভাবিত করেছেন তা নির্ণয় করা কঠিন ৬ ।
এক জন্তুর অংশবিশেষ অপর একটির শরীরে আরোপিত ! পরিচিত পশুর রূপান্তর ।
‘হিজিবিজি’ বইয়ের ৫, ৭ ও ১৫ নম্বর ছড়াতে এমনটাই ঘটেছে ।
এই সূত্রে সুবিখ্যাত ‘খিচুড়ি ।’ এবং ‘কিম্ভূত !’-এর নাম মনে পড়বেই ।
সুকুমার রায়-এর সেই কবিতাজোড়া প্রথম বেরয় ‘সন্দেশ’ পত্রিকায়, যথাক্রমে মাঘ ১৩২১ ও আশ্বিন ১৩২৫ সংখ্যায় ।
কিন্তু যোগীন্দ্রনাথ-এর ‘কেমন হ’ত !’, ‘অদল-বদল’ কিংবা ‘আজব চিড়িয়াখানা’ প্রথম কোন্ পত্রিকায় কবে ছাপা হয় ?
BlOGUS-বন্ধুরা কেউ জানালে ভাল লাগবে ।
‘খিচুড়ি ।’-তে মোরগের সঙ্গে জুড়েছিল গরু, টিয়ার সঙ্গে গিরগিটি ।
‘অদল-বদল’ ছড়ায় মোরগ ও টিয়ার অর্ধাংশ বসেছে কুকুর আর বেড়ালের দেহে ।
| ‘অদল-বদল’, ‘হিজিবিজি’ । শিল্পী ।। অজ্ঞাত । |
‘আজব চিড়িয়াখানা’-তে অবশ্য পশুর চেনা বৈশিষ্ট্যকেই কল্পনায় নবরূপ দেওয়া হয়েছে ।
“কেউ কখনো দেখেনি যা” - তা প্রত্যক্ষ করার লক্ষ্যে ।
সিংহের কেশর বসেছে পিছনে । জিরাফের গলা উধাও ।
| ‘আজব চিড়িয়াখানা’-র প্রথম পৃষ্ঠা, ‘হিজিবিজি’ । শিল্পী ।। অজ্ঞাত । |
ছবির নিচে দক্ষিণ কোণে যেন পড়া যাচ্ছে চিত্রকরের নামের আদ্যাক্ষর : P. G.
সম্ভবত পূর্ণচন্দ্র ঘোষ ৭ ।
বিমল ঘোষ (মৌমাছি) ‘কেমন হ’ত !’-র চিত্রটির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে শেষে লিখেছেন :
“হাসির সঙ্গে চমক – ভয়ের সঙ্গে মজা – তাই তো যোগীন্দ্রনাথ ছোটদের বন্ধু – শিশুমনের রাজা ।” ৮
| ‘কেমন হ’ত’ ও ‘গঙ্গারামের খুড়ো’, ‘হিজিবিজি’ । শিল্পী ।। পূর্ণচন্দ্র ঘোষ (?) এবং অজ্ঞাত । |
‘হিজিবিজি’-র ছড়া # ৬ ‘গঙ্গারামের খুড়ো’-র ক্ষেত্রে কিন্তু ছবির সঙ্গে লেখার সম্বন্ধ ক্ষীণ ।
চিত্রটি নিঃসন্দেহে ‘হাম্পটি ডাম্পটি’-র, পরে সুখলতা রাও-এর তর্জমায় যিনি ‘ডিম্বুরাম’ ।
কিন্তু কেন তিনি পাঁচিলে উপবিষ্ট, কী পড়ছেন বা শোনাচ্ছেন, ‘গঙ্গারামের খুড়ো’-য় তার কোনো উত্তর নেই ।
ছড়া তথা নায়কের নামকরণের কারণও পরিষ্কার নয় ।
৮) সখের গাড়ী ; ৯) সাধের নৌকা ; ১৬) উল্টা বুঝলি রাম ! ; ১১) ভাগ্যে রক্ষে ; ১২) দোলনা
পূর্বোল্লিখিত হাল আমলের অমনিবাসে (দ্রষ্টব্য ‘ইজি-চেয়ার’) উপরের ছড়াগুলির সঙ্গে অলংকরণ গরহাজির ।
‘হিজিবিজি’-র মূল সংস্করণ খুললে তবেই ফাঁস হবে ‘সখের গাড়ী’ = শামুক ৯ , ‘সাধের নৌকা’ = ছাতা !
কিংবা ‘উল্টা বুঝলি রাম !’-এ নিয়ম ভেঙে অশ্বযুগল সওয়ার হয়েছেন বালক-চালিত ফিটনে ।
| ‘সখের গাড়ী’ ও ‘সাধের নৌকা’, ‘হিজিবিজি’ । শিল্পী ।। অজ্ঞাত । |
ভয়ের সঙ্গে মজা মিশেছে ‘ভাগ্যে রক্ষে’ ছড়াতেও ।
এক মৎস্যশিকারি পড়েছেন কুমির আর চিতা-র মাঝখানে ১০ !
ছবিহীন ন্যাড়া স্তবক চতুষ্টয় পড়লে কিন্তু রোমাঞ্চের কণামাত্র মিলবে না ।
ছড়া # ১২ প্রায় নির্ভুলভাবে স্মৃতি থেকে উদ্ধৃত করেছিলেন প্রবীণ অন্নদাশঙ্কর রায় ১১ ।
সেই ‘দোলনা’-র স্বরূপ বুঝতে বইয়ের এই বিচিত্র চিত্রের শরণাপন্ন হতেই হবে ।
| ‘দোলনা’, ‘হিজিবিজি’ । শিল্পী ।। অজ্ঞাত । |
১০) ছেলের চিঠি
‘ফড়িংবাবুর বিয়ে’ দিয়েছিলেন যোগীন্দ্রনাথ, ‘হাসি রাশি’ গ্রন্থে ।
‘হিজিবিজি’-র দশম ছড়া ‘ছেলের চিঠি’-তে আছে সোনা ব্যাঙের বিবাহের নিখুঁত বিবরণ । মেনুশুদ্ধ ।
ছেলে কটকটে কোন্ শ্রেণির জীব, পদ্যেই তা প্রকাশিত ।
কিন্তু ভেক-বরযাত্রীগণের অভিনব উভচর নৌকাটিকে চিনে নেওয়ার একমাত্র চাবিকাঠি হল অলংকরণ ।
দু’পৃষ্ঠার ছড়া । প্রথমটির প্রতিলিপি রইল ।
|
‘ছেলের চিঠি’-র প্রথম পৃষ্ঠা,
‘হিজিবিজি’ । শিল্পী ।। অজ্ঞাত । |
১৩) চিৎপটাং
স্পীচ-বাবল নেই । কিন্তু পুরোটাই শেয়াল ও হাঁসের কথোপকথন ।
‘তালপাতার সিপাই’-এর মত ছড়া # ১৩-কেও কি কমিক-স্ট্রিপ বললে ভুল হয় ?
নিজেরাই বিচার করুন ।
প্রসঙ্গত, ‘হাসি রাশি’-তে ‘চিৎপটাং’ নামে একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র কবিতা রয়েছে ।
১৪) বাপরে বাপ্ ; ২০) নাক ! – সাবধান !
অকারণে গাছ কাটার ফলে বনদেবীর শাপ । অপরাধীদ্বয় ধাপে ধাপে পরিণত হন বৃক্ষে ।
মজার তুলনায় ‘বাপরে বাপ্’-এ যেন ভয়ানক রসের প্রাধান্য ।
‘নাক ! – সাবধান !’ ছড়ায় তেমনি, খাঁদা নাক দেখে হাসবার পাপে গদাই-এর নাসিকা তেরো হাত লম্বা হয়ে যায় ।
একেবারে মিথ্যাবাদী পিনোকিয়ো-র দশা !
সুকুমার রায়-এর ‘অসম্ভব নয় !’-তেও (‘সন্দেশ’, ফাল্গুন ১৩২৪) ছিলেন এক দীর্ঘনাসা সাহেব ।
সে তাঁর স্বাভাবিক ‘বাহার’ । কোনো অপরাধের সাজা নয় ।
নানান লেখায় মানুষ, জীবজন্তু বা প্রকৃতির প্রতি সদয় হওয়ার শিক্ষা দিয়েছিলেন যোগীন সরকার ।
না মানলে ‘পাপী’-র উপর নেমে আসত দুঃস্বপ্নের মত নির্মম গুরুদণ্ড ।
‘বাপরে বাপ্’ কিংবা ‘নাক ! – সাবধান !’ সেই ধাঁচের ছড়া ।
১৭) ঘোড়ার ডিম
আপাত-চমকপ্রদ আবিষ্কার – যা পরে অলীক প্রমাণিত হয় : ‘মেয়ার’স নেস্ট’ শব্দযুগলের একটি অর্থ নাকি এমনটাই ।
কিন্তু ডিম্ব-সহ অশ্ব-নীড় নেহাতই কল্পনা নয়, সচিত্র ‘ঘোড়ার ডিম’ এমনটাই সাব্যস্ত করে ।
লীলা মজুমদার-এর ভাষায় “কবিতার কথায় যদি বা কারো প্রত্যয় না হয়, ছবি দেখলে মন থেকে সব অবিশ্বাস ঘুচে যেতে বাধ্য । ... এ ছবি কে এঁকেছিলেন জানি না, তবে কবির সঙ্গে তিনিও স্বচ্ছন্দে অমরত্ব দাবী করতে পারেন ।” ১২
২১) বিয়ে-পাগলা
আজকে যে-বিষয় বা রসিকতা নিতান্ত নিরীহ, পরশু তা অতি সংবেদনশীল গণ্য হতে পারে ।
কিশোর-মনের পক্ষে কোনটা উপযোগী, যুগের সঙ্গে তার ধারণা পালটাতে বাধ্য ।
‘হাসি খুসি’ দ্বিতীয় ভাগ-এ (১৯০৪) বৃদ্ধ ‘সার্কাসের বাঘ’-কে বশ করা হয় তার গায়ে জ্বলন্ত তুবড়ির ফুলকি ছুঁড়ে ।
হারাধন-এর ছেলের দল এক চোর-কে দস্তুরমত গণপ্রহার করে তাঁর কান কেটে নেয় ।
‘হাসি রাশি’-র ‘ঘুমের ওষুধ’ ছড়ায় মজার আড়ালে বর্ণবৈষম্যের গন্ধ ।
অনুরূপভাবে, শুধু বড়দের প্রহসনে নয় ১৩ , ছোটদের ছড়াতেও ‘বিয়ে-পাগলা’ হয়েছেন নিষ্ঠুর ঠাট্টার পাত্র ।
‘হিজিবিজি’ পুস্তকের এই অন্তিম তথা ২১ নম্বর রচনা কি আজও আদৌ শিশুপাঠ্য ?
কবিতাটি চার পৃষ্ঠার । প্রথমটি প্রদর্শিত হল ।
১৮) গোলক ধাঁধা ; ১৯) হ-য-ব-র-ল (স্বর্গীয় সুকুমার রায় চৌধুরী লিখিত)
‘হিজিবিজি’-র তিনটি পৃষ্ঠা সম্পূর্ণভাবে ধাঁধার প্রতি নিবেদিত ।
‘গোলক ধাঁধা’-র অপ্রচলিত বিচিত্র আকার, ঐ অংশটিকে আরও আকর্ষণীয়, কৌতূহলোদ্দীপক করে তুলেছে ।
এরপর জোড়া পৃষ্ঠার ‘হ-য-ব-র-ল’ শীর্ষক ধাঁধা ।
‘সন্দেশ’ পত্রিকায় সুকুমার-প্রণীত ধারাবাহিক উপন্যাস ‘হ-য-ব-র-ল’ শুরু হয় জ্যৈষ্ঠ ১৩২৯ থেকে । অর্থাৎ ১৯২২ ।
‘হিজিবিজি’-র প্রথম এডিশন ১৯১৬ সালে বেরয় ।
এমন হতে পারে, বইতে ‘হ-য-ব-র-ল’ ধাঁধার অংশটি ১৯২২ বা ১৯২৩ (রায় মহাশয়ের প্রয়াণের সাল)-পরবর্তী সংযোজন ।
উপন্যাসের জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখেই সম্ভবত এই বিভাগের নামকরণ ।
যদিও শিরোনামটুকু ভিন্ন সমনামী কাহিনির সঙ্গে ‘হিজিবিজি’-র ধাঁধার কোনো সম্পর্ক নেই ।
BlOGUS-এর হাতে এসেছে ‘হিজিবিজি’ গ্রন্থের ১৮ শ সংস্করণ ।
সাল অজানা হলেও সুকুমার রায় অবশ্যই তার অনেক আগে প্রয়াত ।
স্বভাবতই আলোচ্য অংশে স্রষ্টার নামের পূর্বে বসেছে ‘স্বর্গীয়’ ।
‘হিজিবিজি’-র ‘হ-য-ব-র-ল’-তে পাঁচটি মজাদার খেলা বা ধাঁধা ।
পৃষ্ঠা দুটি আগে সাজিয়ে ফেলা যাক :
প্রথম ছবিটি আপাতদৃষ্টিতে খাঁচার ।
খুঁটিয়ে দেখলে কিন্তু ধরা পড়বেন পিঞ্জরাবদ্ধ ‘সিঙ্গিমামা’ ।
স্রেফ রেখার ঘনত্বের হেরফের ঘটিয়ে এক আশ্চর্য দৃষ্টি বিভ্রম !
সঙ্গে দু’লাইনের ছোট্ট ছড়া । সুকুমার-এরই রচনা ?
এর পর ‘পড় ত কি লিখেছে ?’
বাঁকাচোরা নানা ছাঁদের লাইনের মধ্যে থেকে উৎসাহী পাঠক ঠিক আবিষ্কার করে ফেলবেন ‘হিজিবিজি লেখা’ ।
একই ধরনের একটি ধাঁধা প্রকাশিত হয়েছিল ‘সন্দেশ’-এর আশ্বিন ১৩২৩ সংখ্যায় । ‘এটা পড় দেখি !’ শিরোনামে :
BlOGUS-বন্ধু
পড়তে পারলেন তো ?
পরবর্তী খেলা দুটিও ‘সন্দেশ’ থেকে গৃহীত ।
বই উলটে ধরলেই ছবির ছাগল বদলে যায় মানুষে ।
‘সন্দেশ’, আশ্বিন ১৩২৩-এ চিত্রের নিচে-উপরে লেখা হয় ‘এক যে ছিল ছাগল’ ও ‘তার মনিবটি এক পাগল’ :
দেখাই যাচ্ছে, ‘হিজিবিজি’-তে এসে সুকুমার ছড়াটিকে ঢেলে সাজান -
“লং সাহেবের পাগলা ছাগল মেজাজ বড় চটা,
যেমন তাহার শিঙের বাহার, তেমনি দাড়ির ঘটা !
মনিবটি তার ব্যস্তবাগীশ, জালার মত দেহ,
আসলে পরে এদিক্ পানে, চটিয়ো না ক কেহ ।”
‘ভারী গম্ভীর’-এর উলটোদিকে ‘বেজায় স্ফুর্ত্তি’ ।
‘সন্দেশ’ পত্রিকার কার্তিক ১৩২২ সংখ্যার ‘নূতন ধাঁধা’-টি ছিল এইরকম :
তার
‘হিজিবিজি’-সংস্করণে যুক্ত হল -
“মুখটি যেন তেলের হাঁড়ি -
কার সাথে করেছে আড়ি ?
উল্টে দেখি স্ফুর্ত্তিভরে
মুখের হাসি উথলে পড়ে !”
‘হ-য-ব-র-ল’ বিভাগের পঞ্চম ধাঁধায় আবার দৃষ্টি বিভ্রম - এবারে নানারকম বিন্দুর সাহায্যে ।
একটু দূর থেকে দেখলেই ফুটে উঠবে একটি ছেলের মুখ ।
এক্ষেত্রেও ছোট্ট একটি পদ্যের মাধ্যমে ‘ফুটকি’-র মজা বুঝিয়ে দেওয়া হয় ।
সুকুমার রায়-এর কোনো রচনাসংগ্রহে ‘হিজিবিজি’ বইয়ের এই সচিত্র ‘হ-য-ব-র-ল’ অংশ নজরে আসেনি ।
বিচ্ছিন্নভাবে হয়ত ছাগল-মনিব কিংবা বদমেজাজি-খোশমেজাজি ছবিদুটি সংকলিত হয়েছে ।
কিন্তু তা ‘সন্দেশ’ থেকে । ‘হিজিবিজি’-র জন্য নতুন করে লেখা আনুষঙ্গিক ছড়াগুলি সেখানে নেই ।
স্পীচ-বাবল নেই । কিন্তু পুরোটাই শেয়াল ও হাঁসের কথোপকথন ।
‘তালপাতার সিপাই’-এর মত ছড়া # ১৩-কেও কি কমিক-স্ট্রিপ বললে ভুল হয় ?
নিজেরাই বিচার করুন ।
প্রসঙ্গত, ‘হাসি রাশি’-তে ‘চিৎপটাং’ নামে একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র কবিতা রয়েছে ।
| ‘চিৎপটাং’, ‘হিজিবিজি’ । শিল্পী ।। অজ্ঞাত । |
১৪) বাপরে বাপ্ ; ২০) নাক ! – সাবধান !
অকারণে গাছ কাটার ফলে বনদেবীর শাপ । অপরাধীদ্বয় ধাপে ধাপে পরিণত হন বৃক্ষে ।
মজার তুলনায় ‘বাপরে বাপ্’-এ যেন ভয়ানক রসের প্রাধান্য ।
| ‘বাপরে বাপ্’-এর প্রথম পৃষ্ঠা, ‘হিজিবিজি’ । শিল্পী ।। অজ্ঞাত । |
‘নাক ! – সাবধান !’ ছড়ায় তেমনি, খাঁদা নাক দেখে হাসবার পাপে গদাই-এর নাসিকা তেরো হাত লম্বা হয়ে যায় ।
একেবারে মিথ্যাবাদী পিনোকিয়ো-র দশা !
সুকুমার রায়-এর ‘অসম্ভব নয় !’-তেও (‘সন্দেশ’, ফাল্গুন ১৩২৪) ছিলেন এক দীর্ঘনাসা সাহেব ।
সে তাঁর স্বাভাবিক ‘বাহার’ । কোনো অপরাধের সাজা নয় ।
| ‘নাক ! – সাবধান !’, ‘হিজিবিজি’ । শিল্পী ।। অজ্ঞাত । |
নানান লেখায় মানুষ, জীবজন্তু বা প্রকৃতির প্রতি সদয় হওয়ার শিক্ষা দিয়েছিলেন যোগীন সরকার ।
না মানলে ‘পাপী’-র উপর নেমে আসত দুঃস্বপ্নের মত নির্মম গুরুদণ্ড ।
‘বাপরে বাপ্’ কিংবা ‘নাক ! – সাবধান !’ সেই ধাঁচের ছড়া ।
১৭) ঘোড়ার ডিম
আপাত-চমকপ্রদ আবিষ্কার – যা পরে অলীক প্রমাণিত হয় : ‘মেয়ার’স নেস্ট’ শব্দযুগলের একটি অর্থ নাকি এমনটাই ।
কিন্তু ডিম্ব-সহ অশ্ব-নীড় নেহাতই কল্পনা নয়, সচিত্র ‘ঘোড়ার ডিম’ এমনটাই সাব্যস্ত করে ।
লীলা মজুমদার-এর ভাষায় “কবিতার কথায় যদি বা কারো প্রত্যয় না হয়, ছবি দেখলে মন থেকে সব অবিশ্বাস ঘুচে যেতে বাধ্য । ... এ ছবি কে এঁকেছিলেন জানি না, তবে কবির সঙ্গে তিনিও স্বচ্ছন্দে অমরত্ব দাবী করতে পারেন ।” ১২
| ‘ঘোড়ার ডিম’, ‘হিজিবিজি’ । শিল্পী ।। অজ্ঞাত । |
২১) বিয়ে-পাগলা
আজকে যে-বিষয় বা রসিকতা নিতান্ত নিরীহ, পরশু তা অতি সংবেদনশীল গণ্য হতে পারে ।
কিশোর-মনের পক্ষে কোনটা উপযোগী, যুগের সঙ্গে তার ধারণা পালটাতে বাধ্য ।
‘হাসি খুসি’ দ্বিতীয় ভাগ-এ (১৯০৪) বৃদ্ধ ‘সার্কাসের বাঘ’-কে বশ করা হয় তার গায়ে জ্বলন্ত তুবড়ির ফুলকি ছুঁড়ে ।
হারাধন-এর ছেলের দল এক চোর-কে দস্তুরমত গণপ্রহার করে তাঁর কান কেটে নেয় ।
‘হাসি রাশি’-র ‘ঘুমের ওষুধ’ ছড়ায় মজার আড়ালে বর্ণবৈষম্যের গন্ধ ।
অনুরূপভাবে, শুধু বড়দের প্রহসনে নয় ১৩ , ছোটদের ছড়াতেও ‘বিয়ে-পাগলা’ হয়েছেন নিষ্ঠুর ঠাট্টার পাত্র ।
‘হিজিবিজি’ পুস্তকের এই অন্তিম তথা ২১ নম্বর রচনা কি আজও আদৌ শিশুপাঠ্য ?
কবিতাটি চার পৃষ্ঠার । প্রথমটি প্রদর্শিত হল ।
| ‘বিয়ে-পাগলা’-র প্রথম পৃষ্ঠা, ‘হিজিবিজি’ । শিল্পী ।। অজ্ঞাত । |
১৮) গোলক ধাঁধা ; ১৯) হ-য-ব-র-ল (স্বর্গীয় সুকুমার রায় চৌধুরী লিখিত)
‘হিজিবিজি’-র তিনটি পৃষ্ঠা সম্পূর্ণভাবে ধাঁধার প্রতি নিবেদিত ।
‘গোলক ধাঁধা’-র অপ্রচলিত বিচিত্র আকার, ঐ অংশটিকে আরও আকর্ষণীয়, কৌতূহলোদ্দীপক করে তুলেছে ।
| ‘গোলক ধাঁধা’, ‘হিজিবিজি’ । শিল্পী ।। অজ্ঞাত । |
এরপর জোড়া পৃষ্ঠার ‘হ-য-ব-র-ল’ শীর্ষক ধাঁধা ।
‘সন্দেশ’ পত্রিকায় সুকুমার-প্রণীত ধারাবাহিক উপন্যাস ‘হ-য-ব-র-ল’ শুরু হয় জ্যৈষ্ঠ ১৩২৯ থেকে । অর্থাৎ ১৯২২ ।
‘হিজিবিজি’-র প্রথম এডিশন ১৯১৬ সালে বেরয় ।
এমন হতে পারে, বইতে ‘হ-য-ব-র-ল’ ধাঁধার অংশটি ১৯২২ বা ১৯২৩ (রায় মহাশয়ের প্রয়াণের সাল)-পরবর্তী সংযোজন ।
উপন্যাসের জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখেই সম্ভবত এই বিভাগের নামকরণ ।
যদিও শিরোনামটুকু ভিন্ন সমনামী কাহিনির সঙ্গে ‘হিজিবিজি’-র ধাঁধার কোনো সম্পর্ক নেই ।
BlOGUS-এর হাতে এসেছে ‘হিজিবিজি’ গ্রন্থের ১৮ শ সংস্করণ ।
সাল অজানা হলেও সুকুমার রায় অবশ্যই তার অনেক আগে প্রয়াত ।
স্বভাবতই আলোচ্য অংশে স্রষ্টার নামের পূর্বে বসেছে ‘স্বর্গীয়’ ।
‘হিজিবিজি’-র ‘হ-য-ব-র-ল’-তে পাঁচটি মজাদার খেলা বা ধাঁধা ।
পৃষ্ঠা দুটি আগে সাজিয়ে ফেলা যাক :
| ‘হ-য-ব-র-ল’, ‘হিজিবিজি’ । ধাঁধা-সৃজন ও শিল্পী ।। সুকুমার রায় । |
প্রথম ছবিটি আপাতদৃষ্টিতে খাঁচার ।
খুঁটিয়ে দেখলে কিন্তু ধরা পড়বেন পিঞ্জরাবদ্ধ ‘সিঙ্গিমামা’ ।
স্রেফ রেখার ঘনত্বের হেরফের ঘটিয়ে এক আশ্চর্য দৃষ্টি বিভ্রম !
সঙ্গে দু’লাইনের ছোট্ট ছড়া । সুকুমার-এরই রচনা ?
এর পর ‘পড় ত কি লিখেছে ?’
বাঁকাচোরা নানা ছাঁদের লাইনের মধ্যে থেকে উৎসাহী পাঠক ঠিক আবিষ্কার করে ফেলবেন ‘হিজিবিজি লেখা’ ।
একই ধরনের একটি ধাঁধা প্রকাশিত হয়েছিল ‘সন্দেশ’-এর আশ্বিন ১৩২৩ সংখ্যায় । ‘এটা পড় দেখি !’ শিরোনামে :
| ‘এটা পড় দেখি !’ (ধাঁধা), ‘সন্দেশ’, আশ্বিন ১৩২৩ । |
পরবর্তী খেলা দুটিও ‘সন্দেশ’ থেকে গৃহীত ।
বই উলটে ধরলেই ছবির ছাগল বদলে যায় মানুষে ।
‘সন্দেশ’, আশ্বিন ১৩২৩-এ চিত্রের নিচে-উপরে লেখা হয় ‘এক যে ছিল ছাগল’ ও ‘তার মনিবটি এক পাগল’ :
| ‘এক যে ছিল ছাগল’, ‘সন্দেশ’, আশ্বিন ১৩২৩ । |
দেখাই যাচ্ছে, ‘হিজিবিজি’-তে এসে সুকুমার ছড়াটিকে ঢেলে সাজান -
“লং সাহেবের পাগলা ছাগল মেজাজ বড় চটা,
যেমন তাহার শিঙের বাহার, তেমনি দাড়ির ঘটা !
মনিবটি তার ব্যস্তবাগীশ, জালার মত দেহ,
আসলে পরে এদিক্ পানে, চটিয়ো না ক কেহ ।”
‘ভারী গম্ভীর’-এর উলটোদিকে ‘বেজায় স্ফুর্ত্তি’ ।
‘সন্দেশ’ পত্রিকার কার্তিক ১৩২২ সংখ্যার ‘নূতন ধাঁধা’-টি ছিল এইরকম :
| ‘নূতন ধাঁধা’, ‘সন্দেশ’, কার্তিক ১৩২২ । |
“মুখটি যেন তেলের হাঁড়ি -
কার সাথে করেছে আড়ি ?
উল্টে দেখি স্ফুর্ত্তিভরে
মুখের হাসি উথলে পড়ে !”
‘হ-য-ব-র-ল’ বিভাগের পঞ্চম ধাঁধায় আবার দৃষ্টি বিভ্রম - এবারে নানারকম বিন্দুর সাহায্যে ।
একটু দূর থেকে দেখলেই ফুটে উঠবে একটি ছেলের মুখ ।
এক্ষেত্রেও ছোট্ট একটি পদ্যের মাধ্যমে ‘ফুটকি’-র মজা বুঝিয়ে দেওয়া হয় ।
সুকুমার রায়-এর কোনো রচনাসংগ্রহে ‘হিজিবিজি’ বইয়ের এই সচিত্র ‘হ-য-ব-র-ল’ অংশ নজরে আসেনি ।
বিচ্ছিন্নভাবে হয়ত ছাগল-মনিব কিংবা বদমেজাজি-খোশমেজাজি ছবিদুটি সংকলিত হয়েছে ।
কিন্তু তা ‘সন্দেশ’ থেকে । ‘হিজিবিজি’-র জন্য নতুন করে লেখা আনুষঙ্গিক ছড়াগুলি সেখানে নেই ।
অবশেষে : ‘হিজিবিজি’-র প্রচ্ছদ !
সুকুমার
রায়
এমন একজন স্রষ্টা, যাঁর ছোট-বড় যে-কোনো অনাবিষ্কৃত লেখা বা চিত্র আমাদের কাছে
অমূল্য ।
অথচ মৃত্যুর নয় দশক বাদেও তাঁর আঁকা যাবতীয় প্রচ্ছদ, ইলাস্ট্রেশন, পেন্টিং একত্রিত করে অ্যালবাম প্রকাশিত হল না ।
যোগীন্দ্রনাথ সরকার-এর ‘হিজিবিজি’ ।
বইখানির মলাট দেখলেই একটু থমকে যেতে হয় ।
এ অঙ্কনশৈলী, ঐ ভঙ্গি যে বড্ড পরিচিত ।
আমাদের পরম বন্ধু হিজি বিজ্ বিজ্-এর গড়াগড়ি-দেওয়া প্রতিকৃতি মনে পড়ে ?
এ যেন তারই দাঁড়ানো সংস্করণ ।
সন্দেহ বাড়িয়ে দেয় ‘হিজিবিজি’-র প্রচ্ছদের নিচের বাঁ কোণের স্বাক্ষর । ‘S.R.’ ?!
নিজের বই ছাড়া সীতা দেবী-র ‘নিরেট গুরুর কাহিনী ও অন্যান্য’ ১৪ ইত্যাদি কিছু গ্রন্থের মলাট এঁকেছিলেন সুকুমার ।
এই খবরটুকু জানা ছিল । কিন্তু ‘হিজিবিজি’ ? নাঃ !
তবে BlOGUS নিতান্তই বোগাস ব্লগ ।
নামের আদ্যাক্ষর ‘S.R.’ (?) এবং স্টাইল চেনা-চেনা লাগলেই যে শিল্পী সুকুমার-ই হবেন, এমন তো নয় ।
বিশেষজ্ঞরা এ-বিষয়ে আলোকপাত করবেন কি ?
যোগীন্দ্রনাথ সরকার (এবং সুকুমার রায়) -এর ‘হিজিবিজি’ বইয়ের প্রচ্ছদ সাজিয়ে দিয়ে পাততাড়ি গোটাচ্ছে BlOGUS ।
অথচ মৃত্যুর নয় দশক বাদেও তাঁর আঁকা যাবতীয় প্রচ্ছদ, ইলাস্ট্রেশন, পেন্টিং একত্রিত করে অ্যালবাম প্রকাশিত হল না ।
যোগীন্দ্রনাথ সরকার-এর ‘হিজিবিজি’ ।
বইখানির মলাট দেখলেই একটু থমকে যেতে হয় ।
এ অঙ্কনশৈলী, ঐ ভঙ্গি যে বড্ড পরিচিত ।
আমাদের পরম বন্ধু হিজি বিজ্ বিজ্-এর গড়াগড়ি-দেওয়া প্রতিকৃতি মনে পড়ে ?
এ যেন তারই দাঁড়ানো সংস্করণ ।
সন্দেহ বাড়িয়ে দেয় ‘হিজিবিজি’-র প্রচ্ছদের নিচের বাঁ কোণের স্বাক্ষর । ‘S.R.’ ?!
| ‘হিজিবিজি’ গ্রন্থের প্রচ্ছদ-স্রষ্টার অস্পষ্ট স্বাক্ষর । |
নিজের বই ছাড়া সীতা দেবী-র ‘নিরেট গুরুর কাহিনী ও অন্যান্য’ ১৪ ইত্যাদি কিছু গ্রন্থের মলাট এঁকেছিলেন সুকুমার ।
এই খবরটুকু জানা ছিল । কিন্তু ‘হিজিবিজি’ ? নাঃ !
তবে BlOGUS নিতান্তই বোগাস ব্লগ ।
নামের আদ্যাক্ষর ‘S.R.’ (?) এবং স্টাইল চেনা-চেনা লাগলেই যে শিল্পী সুকুমার-ই হবেন, এমন তো নয় ।
যোগীন্দ্রনাথ সরকার (এবং সুকুমার রায়) -এর ‘হিজিবিজি’ বইয়ের প্রচ্ছদ সাজিয়ে দিয়ে পাততাড়ি গোটাচ্ছে BlOGUS ।
| যোগীন্দ্রনাথ সরকার-এর ‘হিজিবিজি’ । প্রচ্ছদ শিল্পী ।। সুকুমার রায় (?) । |
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
১ = ‘সন্দেশ’ শ্রাবণ ১৩৩০ সংখ্যায় ছাপা হয় সুকুমার-অঙ্কিত
‘“এক্কাগাড়ী খুব ছুটেছে” -’ ।
পরের মাসেই তিনি প্রয়াত হন ।
এই সনে যোগীন্দ্রনাথ সরকার আক্রান্ত হন পক্ষাঘাতে ।
পরের মাসেই তিনি প্রয়াত হন ।
এই সনে যোগীন্দ্রনাথ সরকার আক্রান্ত হন পক্ষাঘাতে ।
২ = ‘উপেন্দ্রকিশোর
রায়চৌধুরী :
গ্রন্থপঞ্জী’,
দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, ‘কোরক সাহিত্য পত্রিকা’, উপেন্দ্রকিশোর সংখ্যা, বইমেলা ২০০৫
।
৩ = ‘সুকুমার
রায় :
জীবনকথা’,
হেমন্তকুমার আঢ্য, পাইওনিয়ার পাবলিশার্স, ১৩৯৭ ।
৪ = ‘খেয়াল
খুসির খেলা’, আশাপূর্ণা দেবী,
‘যোগীন্দ্রনাথ সরকার শতবার্ষিকী স্মরণী’, সম্পাদক : শ্রীহরি গঙ্গোপাধ্যায়, প্রাপ্তিস্থান : সিটি বুক সোসাইটি, ডিসেম্বর ১৯৫৪ ।
‘যোগীন্দ্রনাথ সরকার শতবার্ষিকী স্মরণী’, সম্পাদক : শ্রীহরি গঙ্গোপাধ্যায়, প্রাপ্তিস্থান : সিটি বুক সোসাইটি, ডিসেম্বর ১৯৫৪ ।
৫ = সুকুমার
রায়-এর ‘পালোয়ান’, ‘সন্দেশ’, ভাদ্র ১৩৩০ ; যোগীন্দ্রনাথ সরকার-এর
‘তখন আর এখন’, ‘সন্দেশ’, কার্ত্তিক ১৩৩০ ।
‘ছড়া ও ছবি’ বইতে সংকলিত ‘তখন আর এখন’-এর নায়কের নতুন নাম ‘মল্ল মহারাজ’ ।
৬ = দুই কবির লিখনশৈলীতেও প্রায়ই মিল চোখে পড়ে ।
যোগীন্দ্রনাথ-এর ‘খেলার গান’-এ (সাল অজানা) স্থান পেয়েছিল ‘কাজের লোক’ ।
বইটির অন্যান্য ছড়ার মত এটিও একাধিক চরিত্রের সংলাপ তথা নাটিকার আকারে বিন্যস্ত ।
কিন্তু ‘কাজের লোক’ প্রকৃতপক্ষে সুকুমার রায়-এর রচনা । ‘সন্দেশ’-এ (মাঘ ১৩২৩) প্রকাশিত হওয়ার সময় অবশ্য কবির নাম উল্লিখিত হয়নি ।
‘খেলার গান’ গ্রন্থেও তা অনুপস্থিত । কবিতার শেষে শুধু ছাপা আছে ‘- সন্দেশ’ ।
এই বিভ্রান্তির কারণে সরকার মহাশয়ের ‘শিশুপাঠ্য গ্রন্থাবলী’-তে (শৈব্যা প্রকাশন বিভাগ, ১৯৯৩ ?) যোগীন্দ্রনাথ-এরই সৃষ্টি হিসাবে সংকলিত হয়েছে ‘কাজের লোক’ ।
প্রসঙ্গত, যোগীন্দ্রনাথ সরকার সম্পাদিত ‘গল্প-সঞ্চয়’ গ্রন্থে (১৯৩৬) কিন্তু প্রকৃত লেখকের নামোল্লেখ করেই রাখা হয়েছিল সুকুমার-এর ‘অবাক্ জলপান’ নাটিকা ।
৭ = ‘স্টেটসম্যান’-এ কর্মরত আর্টিস্ট পি. ঘোষ সম্পর্কে খগেন্দ্রনাথ মিত্র লেখেন “প্রধানত যোগীন্দ্রনাথ সরকার মহাশয়ের গ্রন্থাবলির চিত্রশিল্পকার ছিলেন তিনি ।”
(‘শতাব্দীর শিশু-সাহিত্য’, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, আকাদেমি সংস্করণ : ২৬ নভেম্বর ১৯৯৯ ।)
৮ = ‘তোমাদের বন্ধু যোগীন্দ্রনাথ’, বিমল ঘোষ (মৌমাছি),
‘যোগীন্দ্রনাথ সরকার শতবার্ষিকী স্মরণী’, সম্পাদক : শ্রীহরি গঙ্গোপাধ্যায়, প্রাপ্তিস্থান : সিটি বুক সোসাইটি, ডিসেম্বর ১৯৫৪ ।
নিবন্ধটি সম্ভবত ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’-র ‘আনন্দমেলা’ বিভাগে প্রথম বেরয় ।
‘ছড়া ও ছবি’ বইতে সংকলিত ‘তখন আর এখন’-এর নায়কের নতুন নাম ‘মল্ল মহারাজ’ ।
৬ = দুই কবির লিখনশৈলীতেও প্রায়ই মিল চোখে পড়ে ।
যোগীন্দ্রনাথ-এর ‘খেলার গান’-এ (সাল অজানা) স্থান পেয়েছিল ‘কাজের লোক’ ।
বইটির অন্যান্য ছড়ার মত এটিও একাধিক চরিত্রের সংলাপ তথা নাটিকার আকারে বিন্যস্ত ।
কিন্তু ‘কাজের লোক’ প্রকৃতপক্ষে সুকুমার রায়-এর রচনা । ‘সন্দেশ’-এ (মাঘ ১৩২৩) প্রকাশিত হওয়ার সময় অবশ্য কবির নাম উল্লিখিত হয়নি ।
‘খেলার গান’ গ্রন্থেও তা অনুপস্থিত । কবিতার শেষে শুধু ছাপা আছে ‘- সন্দেশ’ ।
এই বিভ্রান্তির কারণে সরকার মহাশয়ের ‘শিশুপাঠ্য গ্রন্থাবলী’-তে (শৈব্যা প্রকাশন বিভাগ, ১৯৯৩ ?) যোগীন্দ্রনাথ-এরই সৃষ্টি হিসাবে সংকলিত হয়েছে ‘কাজের লোক’ ।
প্রসঙ্গত, যোগীন্দ্রনাথ সরকার সম্পাদিত ‘গল্প-সঞ্চয়’ গ্রন্থে (১৯৩৬) কিন্তু প্রকৃত লেখকের নামোল্লেখ করেই রাখা হয়েছিল সুকুমার-এর ‘অবাক্ জলপান’ নাটিকা ।
৭ = ‘স্টেটসম্যান’-এ কর্মরত আর্টিস্ট পি. ঘোষ সম্পর্কে খগেন্দ্রনাথ মিত্র লেখেন “প্রধানত যোগীন্দ্রনাথ সরকার মহাশয়ের গ্রন্থাবলির চিত্রশিল্পকার ছিলেন তিনি ।”
(‘শতাব্দীর শিশু-সাহিত্য’, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, আকাদেমি সংস্করণ : ২৬ নভেম্বর ১৯৯৯ ।)
৮ = ‘তোমাদের বন্ধু যোগীন্দ্রনাথ’, বিমল ঘোষ (মৌমাছি),
‘যোগীন্দ্রনাথ সরকার শতবার্ষিকী স্মরণী’, সম্পাদক : শ্রীহরি গঙ্গোপাধ্যায়, প্রাপ্তিস্থান : সিটি বুক সোসাইটি, ডিসেম্বর ১৯৫৪ ।
নিবন্ধটি সম্ভবত ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’-র ‘আনন্দমেলা’ বিভাগে প্রথম বেরয় ।
৯ = যোগীন্দ্রনাথ
সরকার রচিত ‘ছড়া ও পড়া’ (১৯২১) গ্রন্থে খোকার উভচর ‘কলের গাড়ী’ ছিল
একটি কচ্ছপ ।
সেখানেও ছবি না দেখে, শুধু ছড়াটি পাঠ করে তা অনুমান করা মুস্কিল ।
সেখানেও ছবি না দেখে, শুধু ছড়াটি পাঠ করে তা অনুমান করা মুস্কিল ।
১০ = ‘হাসি
ও খেলা’ (১৮৯১) সংকলনের ‘কেমন জব্দ’ গল্পের কাঠুরেও পড়েন অনুরূপ
পরিস্থিতিতে ।
১১ = ‘যোগীন্দ্রনাথ
সরকার’, অন্নদাশঙ্কর রায়,
‘যোগীন্দ্রনাথ সরকার শতবার্ষিকী স্মরণী’, সম্পাদক : শ্রীহরি গঙ্গোপাধ্যায়, প্রাপ্তিস্থান : সিটি বুক সোসাইটি, ডিসেম্বর ১৯৫৪ ।
‘যোগীন্দ্রনাথ সরকার শতবার্ষিকী স্মরণী’, সম্পাদক : শ্রীহরি গঙ্গোপাধ্যায়, প্রাপ্তিস্থান : সিটি বুক সোসাইটি, ডিসেম্বর ১৯৫৪ ।
১২ = ‘যোগীন্দ্রনাথ
সরকার’, লীলা মজুমদার,
‘যোগীন্দ্রনাথ সরকার শতবার্ষিকী স্মরণী’, সম্পাদক : শ্রীহরি গঙ্গোপাধ্যায়, প্রাপ্তিস্থান : সিটি বুক সোসাইটি, ডিসেম্বর ১৯৫৪ ।
‘ঘোড়ার ডিম’ পদ্যটি ‘খুকুমণির ছড়া’ (১৮৯৯) সংকলনের অন্তর্গত – ভ্রমক্রমে এমন মন্তব্য করেন লীলা মজুমদার এবং তদনুসরণে পরবর্তী বহু নিবন্ধকার ।
বলাই বাহুল্য, ‘খুকুমণির ছড়া’ নয়, ‘ঘোড়ার ডিম’ রয়েছে ‘হিজিবিজি’-তে ।
‘যোগীন্দ্রনাথ সরকার শতবার্ষিকী স্মরণী’, সম্পাদক : শ্রীহরি গঙ্গোপাধ্যায়, প্রাপ্তিস্থান : সিটি বুক সোসাইটি, ডিসেম্বর ১৯৫৪ ।
‘ঘোড়ার ডিম’ পদ্যটি ‘খুকুমণির ছড়া’ (১৮৯৯) সংকলনের অন্তর্গত – ভ্রমক্রমে এমন মন্তব্য করেন লীলা মজুমদার এবং তদনুসরণে পরবর্তী বহু নিবন্ধকার ।
বলাই বাহুল্য, ‘খুকুমণির ছড়া’ নয়, ‘ঘোড়ার ডিম’ রয়েছে ‘হিজিবিজি’-তে ।
১৩ = দীনবন্ধু
মিত্র (১৮৩০ - ১৮৭৩) রচিত প্রহসন ‘বিয়ে পাগলা বুড়ো’ (১৮৬৬) ।
১৪ = গল্পটির অলংকরণ উপেন্দ্রকিশোর
রায়চৌধুরী-র হলেও পুস্তকের প্রচ্ছদখানি সুকুমার-কৃত ।